যে ভাবনা মানুষকে সঠিক ও সফলতার পথ দেখায়

Tue, 12 April, 2022 2:03 PM

অন্যায় থেকে বেঁচে থাকা এবং সঠিক পথের অনুসারী হওয়া ঈমানের একান্ত দাবি। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের জন্য এমন কিছু চিন্তা-ভাবনার বিষয় রয়েছে, যা মানুষকে অন্যায় পথ থেকে দূরে রাখে। সঠিক ও সফলতার পথ দেখায়। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন:

اِعْلَمُوْٓا اَنَّمَا الْحَیٰوةُ الدُّنْیَا لَعِبٌ وَّلَھْوٌ وَّزِیْنَةٌ وَّتَفَاخُرٌۢ بَیْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِی الْاَمْوَالِ وَالْاَوْلَادِ كَمَثَلِ غَیْثٍ اَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُھٗ ثُمَّ یَھِیْجُ فَتَرٰىھُ مُصْفَرًّا ثُمَّ یَكُوْنُ حُطَامًا وَفِی الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ شَدِیْدٌ وَّمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللّٰهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحَیٰوةُ الدُّنْیَآ اِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ-20- سَابِقُوْٓا اِلٰی مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُھَا كَعَرْضِ السَّمَاۗئِ وَالْاَرْضِ اُعِدَّتْ لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَرُسُلِھٖ ذٰلِكَ فَضْلُ اللّٰهِ یُؤْتِیْھِ مَنْ یَّشَاۗئُ وَاللّٰهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِیْمِ-21-

‘তোমরা জেনে রাখ। দুনিয়ার জীবন খেল তামাশা, শোভা-সৌন্দর্য, পারস্পারিক গর্ব-অহংকার, ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা মাত্র। তার উদাহরণ হল বৃষ্টি; যার উৎপন্ন শষ্যাদি কৃষকের মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়; তারপর তা পেকে যায়, তখন তুমি তাকে হলুদবর্ণ দেখতে পাও, পরে তা খড়কুটো হয়ে যায়। আখেরাতে রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং নেককারদের জন্য রয়েছে আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোঁকার বস্তু ছাড়া আর কিছুই না। তোমরা এগিয়ে যাও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত লাভের জন্য, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের প্রশস্ততার মত। তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান এনেছে। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা এটা দান করেন। আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল’। (সূরা হাদীদ; আয়াত নম্বর ২০-২১)

উল্লেখিত আয়াতসমূহ থেকে মানুষের শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, এ দুনিয়া শুধুই মরীচিকা আর ধোঁকার বস্তু ছাড়া অন্য কিছুই নয়। দুনিয়ার ধন-সম্পদ, স্ত্রী-সন্তান সবই আল্লাহর নেয়ামত। কিন্তু এসব নিয়ে মানুষ খুব কমই চিন্তা করে। খুব কমই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। বরং এসব নিয়ে মানুষের অহংকারের কোনো শেষ নেই। এক মুহূর্তের জন্যেও মানুষ মৃত্যু পরবর্তী জীবন নিয়ে চিন্তা করে না। অথচ মানুষ যে ধন-সম্পদ, জ্ঞান-বুদ্ধি, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গর্ব ও অহংকার করে,  এগুলো  কোন  কিছুই  তার সঙ্গে যাবে না। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা তার মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। দুনিয়ার মানুষের জন্য যে সকল বিষয় চিন্তা ও উপলব্ধি করা খুবই জরুরি সেগুলো হলো-

ক. মৃত্যুর পর দাফন হলে তার সুন্দর দেহ অবশিষ্ট থাকবে না। তা পচে-গলে মাটিতে মিশে যাবে।

খ. লাশ দাফনের পরপরই তার রেখে যাওয়া কষ্টার্জিত ধন-সম্পদ নিয়ে ওয়ারিশগণ ভাগাভাগিতে ব্যস্ত হয়ে যাবে। সম্পদ বণ্টন করে নেবে।

গ. প্রিয়তমা স্ত্রী ইদ্দত তথা চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করার পরই, নতুন কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করার স্বপ্ন দেখতে থাকবে। আবার স্বামীও স্ত্রীর মৃত্যুর পর বিয়ের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করবে না।

ঘ. মৃত্যুর পর দিন যতই গড়াতে থাকবে, কলিজার টুকরা ছেলে-মেয়ে আত্মীয়-স্বজন ধীরে ধীরে তার স্মৃতিগুলো ভুলতে থাকবে। হাসি আর খেলায় মেতে উঠবে।

ঙ. একমাত্র তার আমল এবং কর্মফল ছাড়া আর কিছুই তার সাথে যাবে না। অতএব মৃত্যুর পূর্বে ধন-সম্পদ, জ্ঞান-বুদ্ধি, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সঠিক চিন্তাভাবনা করে এগুলোকে  সঠিক  পথে  পরিচালিত  করা উচিৎ। পরকালের চিন্তা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি মনে জাগ্রত রাখা একজন বিচক্ষণ এবং বুদ্ধিমান মানুষের জন্য আবশ্যকীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য। তবেই একজন মানুষ সঠিক ও সফলতার পথের দিশা পাবে। পরকালীন জীবন আনন্দময় এবং সুখময় হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক চিন্তা ও উপলব্ধি দান করুন এবং পরকালীন জীবন সুখময় ও সুখকর করুন। আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.